তোমাকে ভগবান্ দাসরূপে গ্রহণ করিয়াছেন

ওঁ হরিঃ
শ্রীবৃন্দবন
১৮/৪/২৯ ইং
পরম কল্যাণবরেষু,
প্রিয়, বাবা, তোমাকে নিশ্চয়ই বলিতেছি যে আমার নিজের কোন শক্তি নাই। তবে আমাকে সদ্গুরু গ্রহণ করিয়া আপনার করিয়া লইয়াছেন; তিনি এই (আমার) ঘটে থাকিয়া তোমাদের গুরু হইয়াছেন, এবং তোমাদের সমস্ত কল্যাণ বিধান করিবেন। এই বিষয়ে তুমি সংশয় করিও না। তিনি তোমার সমস্ত কার্য্য নিশ্চয়ই দেখিতেছেন; তাহা যে পরিমাণে তোমার চিত্ত নির্ম্মল হইবে, সেই পরিমাণে তুমি নিজ অন্তরে বুঝিতে পারিবে। তুমি বুঝিবে যে তিনি তোমার সম্বন্ধে সমস্ত বিধান করিতেছেন। এতৎ সমস্ত অন্তরের সাক্ষাৎ অনুভূতির বিষয়; বাহিরের কথা শুনিয়া মন নিঃসংশয় হয় না। দেখ; সকল দেশের মহাপুরুষগণ এক বাক্যে বলিয়াছেন, এবং সকল সম্প্রদায়ের শাস্ত্রে উল্লিখিত আছে যে, ভগবান্ নিশ্চয়ই সর্ব্বজ্ঞ – সমস্ত লোকের অন্তর এবং বাহির সকল দিকের দ্রষ্টা, তাঁহার অজ্ঞাত কিছু হইতেছে না ও হইতে পারে না। কিন্তু এই সকলের মুখে শুনিলেও কি সম্পূর্ণরূপে লোক নিঃসংশয় হইতে পারে? আমি তোমাকে যাহা বলিলাম তাহাও তদ্রূপ জানিবে। তোমার প্রশ্নের উত্তর আমি বলিয়া দিলেও, তুমি নিজের অন্তরে সাক্ষাৎ সম্বন্ধে অনুভব না করা পর্য্যন্ত তাহতে সর্ব্বদা নিঃসংশয় হইয়া থাকিতে পারিবে না এবং এইরূপ কেবল শ্রবণ করা দ্বারা তোমার জীবনের বিশেষ পরিবর্ত্তন বুঝিতে পারিবে না। পরন্তু তুমি ইহা নিশ্চয় জানিবে যে, তোমাকে ভগবান্ দাসরূপে গ্রহণ করিয়াছেন, তোমার ময়লা যাহা অন্তরে আছে, তৎসমস্ত ধৌত করিয়া তোমাকে আনন্দ ধামে লইয়া যাইবেন। পত্রে আর অধিক কিছু লিখিতে পারি না। অত্র মঙ্গল
ইতি আশীর্ব্বাদক, শ্রীসন্তদাস